খুলনার কয়রায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এক যুবক অফিস ভবনের নিচতলার একাধিক জানালার গ্লাস ভাঙচুর করলে কর্মচারীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আটক ব্যক্তি রবিউল সরদার (২৭), তিনি কয়রা সদর ইউনিয়নের পায়রাতলা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্র জানায়, হঠাৎ জানালার গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনে কর্মকর্তারা নিচে নেমে এসে এক যুবককে ইট দিয়ে জানালায় আঘাত করতে দেখেন। নিরাপত্তাকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা ও আঘাত করা হয়। পরে অন্যান্য কর্মীরা মিলে ওই যুবককে নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে আটক যুবক মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে কয়রার দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। লো-ভোল্টেজের কারণেও নিত্যদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কয়রার বিদ্যুৎ সরবরাহ বর্তমানে সাতক্ষীরা গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ ও পুরোনো সঞ্চালন লাইনে প্রায়ই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দ্রুত মেরামত সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে পাইকগাছায় নতুন গ্রিড এবং কয়রায় উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
