পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১২, নিহতদের অধিকাংশই শিশু
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু, এক নারী ও এক বৃদ্ধ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান সরকার।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতের এ হামলায় কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশের বেসামরিক বসতবাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। একই সময়ে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেক হামলায় তিন শিশু নিহত হয়।
তবে হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে পাকিস্তান দাবি করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে তাদের অভিযান শুধুমাত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয় না।
কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও এ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষের সময় আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছিল।
এদিকে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যুতে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আফগানিস্তান, পাকিস্তান
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment