বাড়ছে বজ্রপাতে প্রাণহানি, নিরাপদ থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা এবং এর তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাড়ছে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই বজ্রাঘাতে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করলেও প্রাণহানি কমাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা কঠিন।
চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা জেলায় বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কৃষিকাজ, মাছ ধরা কিংবা খোলা মাঠে অবস্থানের সময় অনেকেই বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে কৃষক, জেলে ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা জানান, মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় কালবৈশাখী ও মৌসুমি ঝড়ের সঙ্গে বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়। একটি বজ্রঝড় সাধারণত ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এই সময়টিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। কংক্রিটের তৈরি ভবন বা বিদ্যুৎ অপরিবাহী নিরাপদ স্থাপনা এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক নিরাপদ। গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, ধাতব বস্তু স্পর্শ করা কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে।
তারা আরও বলেন, বজ্রপাতের পূর্বাভাস দ্রুত কৃষক ও জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো গেলে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, জনসচেতনতা এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment